সময়ের সঙ্গে কমেছে বন্ধুর সংখ্যা, মন খারাপের পোস্ট অনামিকার

 


অভিনয়জগতে একসময়ের জনপ্রিয় ধারাবাহিক মুখ অভিনেত্রী অনামিকা চক্রবর্তী আজকাল আর তেমন পর্দায় দেখা না গেলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় নিয়মিতভাবে জীবনের নানা মুহূর্ত শেয়ার করে যাচ্ছেন। সম্প্রতি তিনি নিজের অভিজ্ঞতা, অনুভূতি ও জীবনের দর্শন ভাগ করে নিয়েছেন, যা ভক্তদের জন্য চিন্তাশীল হলেও অনুপ্রেরণামূলক। অনামিকা লিখেছেন, জীবন তাঁর কাছে অনেকটা সিনেমার মতো—প্রতিটি মুহূর্তের পিছনে থাকে একটি উদ্দেশ্য। তিনি সচেতনভাবে নিজের গল্পের পরিচালক হিসেবে জীবন পরিচালনা করছেন। এই মনোভাব তাকে শেখিয়েছে, কখন সিদ্ধান্ত নিজেই নিতে হবে, কখন তা অন্যদের হাতে ছেড়ে দিতে হবে।

সময় ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে অনামিকা সত্যিকার অর্থে ভালো মানুষদের সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন, আবার কিছু আত্মকেন্দ্রিক ও অসৎ ব্যক্তিকেও দেখেছেন। এই অভিজ্ঞতাগুলো তাঁকে নিজের পছন্দ ও স্বাধীনতা সম্পর্কে আরও সচেতন করেছে। অনামিকা উল্লেখ করেছেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বন্ধুর সংখ্যা কমে আসে। এক সময় চারপাশে তিনি ৩০-৫০ জনকে বন্ধু মনে করতেন, এখন শুধুমাত্র তিনজনই বাকি। জীবনে সম্পর্কের দরজা সঙ্কুচিত করা তাঁকে আত্মসচেতনতা ও মর্যাদা দিয়েছে। অনামিকা আরও বলেন, স্বামীর সঙ্গে পরিচয়ের পর বুঝেছেন, পছন্দ ছাড়া ভালোবাসা শুধুই নির্ভরতা। একবার এটি বোঝার পর জীবনে আর কোনো অসুবিধা থাকে না।

নিজের অভিজ্ঞতা ও সচেতনতার ফলে অনামিকা চক্রবর্তী পেয়েছেন এক শান্ত, সংযত ও স্বাধীন জীবনধারা। তিনি জীবনকে সিনেমার মতো দেখেন, বন্ধুত্বের মূল্য বোঝেন এবং নিজের পছন্দ ও স্বাধীনতার প্রতি সচেতন থাকেন। এই জীবন দর্শন তাকে ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে স্থিতিশীলতা, আত্মসম্মান এবং আনন্দ এনে দিয়েছে। অনামিকার এই প্রজ্ঞা ও সংযত জীবনধারা তরুণ প্রজন্মের জন্যও প্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করছে, যেখানে জীবনকে গভীরভাবে উপলব্ধি করা, সম্পর্কের মান নির্ধারণ করা এবং নিজের স্বাধীনতা রক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url