খবর পেয়ে চাঁদা তোলা বন্ধ করলেন জামায়াতের এমপি আবু তালিব

 


ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা মো. আবু তালিব সড়ক থেকে অবৈধভাবে টোল বা চাঁদা আদায়ের সংবাদ পেয়ে সরেজমিনে গিয়ে তা বন্ধ করে দিয়েছেন। শনিবার সকালে কালীগঞ্জ শহরের প্রধান বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গিয়ে তিনি ইজিবাইক, ইঞ্জিনচালিত ভ্যান, আলমসাধু ও অন্যান্য স্থানীয় যানবাহনের চালকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগের সত্যতা পান এবং তাৎক্ষণিকভাবে চাঁদা তোলা বন্ধের নির্দেশ দেন। স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, দীর্ঘদিন ধরে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এক শ্রেণির প্রভাবশালী ব্যক্তি টোল আদায়ের নামে এসব যানবাহনের চালকদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ আদায় করে আসছিল, যা চালকদের জন্য বড় ধরনের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। 

অনেক চালক বাধ্য হয়ে প্রতিদিন নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দিতে হতো বলে জানিয়েছেন এবং টাকা না দিলে তাদের স্ট্যান্ডে দাঁড়াতে দেওয়া হতো না কিংবা বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হতো বলেও অভিযোগ ওঠে। শনিবার সকালে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় চাঁদা আদায়ের বিষয়টি জানতে পেরে সংসদ সদস্য সেখানে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং সংশ্লিষ্টদের কাছে বৈধ অনুমোদনের কাগজপত্র দেখতে চান। কিন্তু চাঁদা আদায়কারীরা কোনো সরকারি অনুমতিপত্র বা বৈধ রসিদ দেখাতে না পারায় তিনি ঘটনাস্থলেই চাঁদা তোলা বন্ধের নির্দেশ দেন এবং ব্যবহৃত রসিদ জব্দ করেন। 

এ সময় তিনি উপস্থিত চালক ও শ্রমজীবী মানুষদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের অভিযোগ শোনেন। সংসদ সদস্য আবু তালিব বলেন, প্রশাসনের বৈধ অনুমতিপত্র বা সরকারি রসিদ ছাড়া কোনো শ্রমিক বা চালকের কাছ থেকে একটি টাকাও আদায় করা যাবে না এবং খেটে খাওয়া মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ অবৈধভাবে নেওয়ার সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শহরের বিভিন্ন স্থানে ভ্যান, রিকশা, ইজিবাইক, আলমসাধু ও নছিমন চালকদের কাছ থেকে একটি চক্র নিয়মিত চাঁদা আদায় করে আসছিল বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণ বেআইনি।

 তিনি জানান, এখন থেকে কোনো চাঁদাবাজ এই স্ট্যান্ডে এসে শ্রমজীবী মানুষের কাছ থেকে টাকা আদায় করতে পারবে না এবং ভবিষ্যতেও এমন অভিযোগ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় চালকরা সংসদ সদস্যের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা অবৈধ চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছিলেন এবং এ বিষয়ে কেউ কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছিল না, ফলে সংসদ সদস্য নিজে এসে ব্যবস্থা নেওয়ায় তারা স্বস্তি পেয়েছেন। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সড়কে অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের ভোগান্তি কমবে এবং শহরের পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরে আসবে বলে আশা করা যায়। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিষয়টি নজরদারিতে রাখার কথা জানানো হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে আবার কোনো চক্র এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড চালাতে না পারে।

Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url